ইসরাইলের পরবর্তী টার্গেট বনাম ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতা! | দৃশ্যপট |
নুরানের সবচেয়ে সামনের পর এর প্রতিশোধ হিসেবে দেশটিকে শাস্তি দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্র দুশোর মতো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানকে এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে। মার্কিন স্যাটেলাইট এর পাশাপাশি ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ সহ ইরানে থাকা গুপ্তচরদের তথ্যের ভিত্তিতে।যে কোনও সময় হামলা চালাতে পারে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ। তবে সেটি কী ধরনের হামলা হতে পারে?
আর এসব হামলা মোকাবিলার ইরানের সক্ষমতা কেমন এ সব প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর দিয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক এবং সমরবিদ্যা। তাই জানাব এবার দৃশ্যপটে সঙ্গে আছি আমি ওমরের নাম করে।নয়। এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ বিশ্লেষকের বিশ্বাস, ইরানের সবশেষ হামলার জবাব হিসেবে ইসরাইল তেহরানের সামরিক স্থাপনা কে তাদের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে। বিশেষ করে মঙ্গলবারের হামলায় ব্যবহৃত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে এই সাইড। এছাড়া ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক।নইলে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে বলেও মনে করেন অনেকে। কারণ ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ইসরাইলের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ।
এর আগেও অনেকবার যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে সতর্ক করতে আহ্বান জানিয়েছে নেতানিয়াহু প্রশাসন। তবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো ইসরাইলের জন্য খুব সহজ হবে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। কেননা দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচী অনেক জায়গায় চলমান।এমনকী মাটির নীচে ভূগর্ভস্থ স্থানেও বিশেষ জায়গায় পরমাণু কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্র এরইমধ্যে বলে দিয়েছে, ইরানে ইসরায়েলের পারমাণবিক হামলার পদক্ষেপকে সমর্থন করবে না তারা। ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি বা পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেনি। জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএ এবং মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, 2000 3 সাল পর্যন্ত একটি সমন্বিত পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিচালনা করেছে ইরান।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, 2015 সালের পারমাণবিক চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণে মনোযোগ দেয় তেহরান অনেক বিশেষজ্ঞের বিশ্বাস মাত্র কয়েক সপ্তাহেই বিধ্বংসী পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে সক্ষম ইরান নয়।ন অনেক বিশ্লেষকের মতে, ইসরাইলের পেট্রোলিয়াম শিল্পকেও আঘাত করতে পারে।
মূলত অর্থনৈতিকভাবে দেশটিকে পঙ্গু করার লক্ষ্যে এ হামলা চালাতে পারে তেল আবিব। তবে এ ধরনের হামলা হলে ইরান, সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রে তেল উত্ পাদন কেন্দ্রে হামলা চালাতে পারে বলে ঝুঁকি রয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন। সেরকম হলে জ্বালানির দাম বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।নখে পোস্ত হামলা বা কমান্ডো অভিযানের বিকল্প হিসেবে ইরানে সাইবার হামলা চালাতে পারে ইসরাইল। এরইমধ্যে ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ইরানের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে দেশটির সঙ্গে প্রায় সব ধরণের বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ইরানের বিভিন্ন সম্পদ জব্দ করেছে ওয়াশিংটন। এমনকি বিদেশি সহায়তা এবং অস্ত্র বিক্রিও বন্ধ রয়েছে।আর বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের হামলার জবাব দিতে ইসরাইল তাদের সাইবার যুদ্ধের ক্ষমতাও ব্যবহার করতে পারে।
লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সাম্প্রতিক পেজার বিস্ফোরণ ঘটানোর মতো সাইবার হামলা চালাতে পারে ইসরাইল গ্যাল।নয়, মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালকের অফিসের মতে, এরা মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের অধিকারী। একটি দেশ প্রকারভেদে বিভিন্ন দূরত্ব এবং গতিতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রচলিত বিস্ফোরক৷ এমনকী জৈবিক রাসায়নিক বা পারমাণবিক অস্ত্রসহ ওয়ারহেড বা ক্ষেপণাস্ত্র আড়াই 1000 কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে সক্ষম ওয়াশিংটন ভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা।আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা 1000 কিলোমিটার পর্যন্ত। তবে নির্মাণাধীন অন্য ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পাল্লা 2500 কিলোমিটার। এর মধ্যে দাবি করেছে, সবশেষ ইসরায়েলি হামলায় ফাতাহ মিসাইল ব্যবহার করা হচ্ছে, যেটি 1000 চারশ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে পৌছাতে পারে। সমরবিদ্যা বলেছেন, ইরানের বিমান বাহিনী তুলনামূলক দুর্বল এবং দেশটির নৌবহরও ততটা আধুনিক নয়।
তবে দেশটির অন্যতম বড় শক্তি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছায়া যোদ্ধারা।তবে অনেক ইরানি বিশ্লেষকের মতে, 1980 সালে ইরান ইরাক যুদ্ধের পর থেকে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারে মনোনিবেশ করেছে ইরান। এশিয়ান মেয়র ফোরামের সেক্রেটারি জেনারেল এবং তেহরান ভিত্তিক হাউস অফ ডিপ্লোম্যাসি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এর পরিচালক হামিদ রেজা গোলাম জাদে বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এই অঞ্চলে টিকে থাকা ইরান এই টিকে থাকার নীতির সঙ্গে খুব ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারে। আবার ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি র প্রতিবেদন বলছে, ইরান সামরিক ভাবে ইসমাঈলকে পরাজিত করতে হয়তো পারবে না।ইরানের বিমানবাহিনীর পুরানো এবং চর্চিত দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ততটা শক্তিশালী নয়।
বছরের পর বছর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে বলে ইরানের মূলত এই অবস্থা৷ তবে এখনও বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন এবং মধ্যপ্রাচ্যের চারপাশে হিজবুল্লা হাতির মতো অসংখ্য ছায়া যোদ্ধা বা সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। ইরানের পরবর্তী ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটির পরিবর্তে দেশটির আবাসিক এলাকাগুলোতে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে।আবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির নৌবাহিনী উপসাগরে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকারী জাহাজের পাশাপাশি ছোট বড় অসংখ্য নৌযান রয়েছে। তাদের যেগুলোর সমন্বিত হামলা, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, নৌবাহিনীর পঞ্চম ফুটো মোকাবিলা করতে হিমশিম খেতে পারে বলে জানিয়েছে বিবিসি। কুয়েত থেকে ওমান পর্যন্ত উপসাগরের আরব দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের ওপর হামলা হলে শুধু ইসরাইলকে নয়।দেশটিকে সমর্থন দেওয়া যে কোনও দেশকে লক্ষ্যবস্তু করতে দ্বিধা করবে না তারা কর।
