ইসরায়েল লেবাননে কতবার আক্রমণ করেছে, ফলাফল কী ছিল?
প্রতিবেশী দেশ লেবাননে স্থল আক্রমণ শুরু করেছে ইসরায়েল। এর আগে দেশটিতে একের পর এক বোমা হামলা ও সেখানে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে অভিযান চালায় তারা৷ তবে এমন আক্রমণের ঘটনা এবারই প্রথম না। এর আগের ঘটনাগুলোর ফলাফল ছিল মিশ্র ইসরাইলের এবারের আক্রমণকে আগে আক্রমণগুলোর চেয়ে ভিন্ন হতে পারে।19 ও 48 সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র সৃষ্টির পর ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের প্রধান গন্তব্য হয়ে ওঠে লেবানন সেই শরণার্থীদের মধ্যে পিলুর মতো ফিলিস্তিনি মিলিশিয়া ও ছিল। এই মিলিশিয়ারা লেবানন থেকে ইসরাইল আক্রমণ করে দেশটিকে সংঘাতের দিক টেনে নেয়।
1978 সালে প্রথমবারের মতো লেবাননে আক্রমণ করে ইসরাইল। তখন সমুদ্রপথে এসে একটি বাস জব্দ করে আধাসামরিক গোষ্ঠী প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন। তাতে 38 জন ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয় যারা ইসরায়েলে কোস্টাল রোড গণহত্যা নামে পরিচিত।এর জবাবে আক্রমন চালায় ইসরায়েল ইসরায়েলি বাহিনী। দক্ষিণ লেবাননে যাওয়ার দুই মাস পর সেখান থেকে সরে যায়। প্রতিবেশী দেশের মধ্যে তাঁর একটি বাফার জোন তৈরি করে সেখানে 2000 সাল পর্যন্ত অবস্থান করে ইসরায়েল এই আক্রমণে লেবাননে 2000 যোদ্ধা ও বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে ইসরায়েলের 18 জন সেনা নিহত হয়।ইসরায়েল লেবাননে সবচেয়ে বড় অপারেশন চালায় 1982 সালে। তখন সেখানে গৃহযুদ্ধ চলছিল 100 100 ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যান সহ 1000 1000 ইসরাইলী সেনা সীমান্ত অতিক্রম করে সেবারও তাদের মূল লক্ষ্য ছিল পিএলও কে হঠানো যাঁরা লেবানন থেকে ইসরাইল এর উপর আক্রমণ অব্যাহত রেখেছিল।
ইসরায়েলি বাহিনী একাধিক ফ্রন্টে অনুপ্রবেশ করে এক সপ্তাহের মধ্যে দেশটির রাজধানী বৈরুতের উপকণ্ঠে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। আক্রমণের সময় ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ওপর গণহত্যা চালায়।তাই সেনারা লেবাননের মধ্যে একটি বাফার জোন তৈরি করে। তিন মাস পর ইসরায়েলিরা ফিরে যায়। এই আক্রমণে লেবাননে 20,000 মানুষ নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই ছিল বেসামরিক নাগরিক। আর ইসরায়েলের ছয়শ চুয়ান্ন জন সেনা নিহত হয় 1982 সালে আক্রমণে পিএলওকে স্থানচ্যূত করতে সফল হয় ইসরায়েল লেবানন থেকে তিউনিশিয়াতে সদরদপ্তর সরিয়ে নেয় পেল।এ অঞ্চলে আক্রমণাত্মক আধা সামরিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ গড়ে ওঠে। হিজবুল্লা ও ইসরাইল কে তার শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে আক্রমণের চেষ্টা করে হিজবুল্লাহ রকেট হামলার জবাবে 1996 সালের এপ্রিলে ইসরায়েলি বাহিনী প্রথমবারের মতো তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়।
হঠাৎ চালানো এই আক্রমণ মাত্র দুই সপ্তাহের একটি অপারেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। আবারও বেসামরিক নাগরিকরা ক্ষতির মুখে পড়ে লেবাননের দিক থেকে 13 জন হিজবুল্লা যোদ্ধা ও আড়াইশো জন বেসামরিক মানুষ নিহত হলেও ইসরায়েল সে 12। কোন মৃত্যু দেখেনি।বিভিন্ন সময়ে ইসলামি গোষ্ঠী রকেট হামলা আর ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর বোমা হামলার মতো ঘটনা থেকেই যায়।সীমান্তের ওপারে ইসরায়েলি শহরগুলোতে গোলাবর্ষণের পাশাপাশি হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা সীমান্ত অতিক্রম করে এবং দুইটি সামরিক গাড়িতে হামলা চালায়। সেখানে আট জন সেনাকে হত্যা ও দুইজনকে জিম্মি করে তারা। জবাবে লেবানন জুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা এবং আর্টিলারি ফায়ারও চালাতে ইসরায়েল একইসঙ্গে বিমান ও নৌ অবরোধ করে। দক্ষিণ লেবাননে স্থল আক্রমণ করে। সে যুদ্ধ 34 দিন স্থায়ী হয়েছিল।
যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হয় লেবাননে প্রায় 1000 একশ 91 জন নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই ছিল বেসামরিক।আর ইসরায়েলের একশ 21 জন সেনা এবং 40 জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়।বিবিসির আন্তর্জাতিক সম্পাদক জেরেমি বয় এর মতে, হেজবুল্লার বিরুদ্ধে ইসরাইলের এই পদক্ষেপে আপাতত দুই দেশের মধ্যকার ভারসাম্যে পরিবর্তন এনেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী গত কয়েক সপ্তাহে ইসরায়েল হিজবুল্লাহ সংগঠনের শিরশ্ছেদ করেছে। তাদের অর্ধেক অস্ত্র ধ্বংস করেছে এবং লেবানন আক্রমণ করেছে। ইসরায়েলের সামরিক বিশ্লেষক ইস্টার্ন বিবিসিকে বলছেন, তিনি বিশ্বাস করেন 1982 সালের মতো ব্যাপক সেনা মোতায়েনের বিপরীতে এবারও 2000 ছয় সালের মতো কৌশল নিয়ে এগোবে ইসরাইল।তিনি বলেন, এটি একটি ধীর সতর্ক এবং হিসেব করে আক্রমণ হবে যেখানে প্রধান অক্ষের দ্রুত ও ব্যাপক আক্রমণের পরিবর্তে দক্ষিণ লেবাননের একের পর এক শহর দখল করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ লেবাননের শহরগুলোতে হিজবুল্লাহ দীর্ঘকাল ধরে অবস্থান করছে। যার ফলে ইসরায়েলের এই শহরগুলি দখল করে দ্রুত ছেড়ে যেতে পারার সম্ভাবনা কম। তবে হামাসের সাথে অক্টোবরের হামলার পর গাজার পরিস্থিতি এবং ইসরায়েলের লেবানন অভিযানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। হিজবুলের অবকাঠামো এবং নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সফল আক্রমণ সত্ত্বেও।লেবাননের দৃশ্যপট অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং প্রমাণিত হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ প্রফেসর আমিন সাইকেল বলেন, হিজবুল্লাহ হামাস না।
এটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখনও বেশ ভালভাবে সশস্ত্র এবং কৌশলগতভাবে স্থাপিত গোষ্ঠী ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অবিরাম প্রতিরোধ চালাতে সক্ষম হবে। এটি ইহুদি রাষ্ট্রের জন্য চড়া মানবিক এবং বস্তুগত মূল্যের কারণ হতে পারে। যে বয়ান উল্লেখ করেছেন যে, ইসরায়েল এখনো গাঁজা অভিযানে তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য হল একটি অর্জন করতে পারেনি। তিনি বলেন।যতদূর জানা যায়, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিশাল টানেল নেটওয়ার্ক এবং সুবিধা রয়েছে। গাজায় প্রবেশ করার সময় তাদের সামরিক উদ্দেশ্যগুলোর একটি ছিল হামাসের টানেল নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা। আর প্রায় এক বছর পরেও তারা সেটা শেষ করতে পারেনি।
