TODAY OFFER

যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তানকে ফাঁকি দিয়ে পারমাণবিক শক্তির দেশ ভারত ?

 



ভারত বর্তমানে একটি পারমাণবিক শক্তির দেশ ভারত। যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের চোখে ফাঁকি দিয়ে নিজেদের পারমাণবিক শক্তির ভাণ্ডার শক্তিশালী করে। বর্তমানে ভারত অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বেশ ভালো অবস্থানে থাকলেও এক সময় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন ও পাকিস্তান।একসঙ্গে ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং দেশটিকে পারমাণবিক দিক দিয়ে গড়ে উঠতে বাধা দেয়। ভারতীয় গোয়েন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র নাকি ভারতকে দমানো জন্য পারমাণবিক বোমা হামলার হুমকি দেয়। কিন্তু এত কিছুর পরও হোমি জাহাঙ্গির ভাবা ইন্দিরা গান্ধি, লালবাহাদুর শাস্ত্রী, টাটা অটলবিহারী বাজপেয়ী এবং আব্দুল কালামের উদ্যোগে ভারতের পারমাণবিক ভাণ্ডার শক্তিশালী হয়েছে। তবে যাত্রা সহজ ছিল না। ভারতের আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে 51 বছর এবং দুই প্রজন্মের প্রয়োজন হয়। আজকের বিশ্ব ইতিহাসের পর্বে আপনাদের জানাব ভারত কী ভাবে?

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গিয়ে পারমাণবিক ভাণ্ডার গড়ে তোলে আপনাদের সঙ্গে আছি। আমি মালিহা সুরাওয়ার্দি।নয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পারমানবিক বোমার ভয়াবহতা এবং শক্তি কর্তৃত্ব পুরো বিশ্বের সামনে আসে। একবিংশ শতাব্দীতে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে ভূ রাজনীতির প্রথম সারির সব দেশই নিজেদের পারমাণবিক বোমা তৈরির উদ্যোগ শুরু করে কর।ন।সব দেশই পারমাণবিক বোমা বানিয়ে পরীক্ষা শুরু করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। 19। পঁয়তাল্লিশ সালের আসে 1900 উনপঞ্চাশ সালে যুক্তরাজ্যে 1952 সালে ফ্রান্স 1960 সালে প্রথম পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল। ভারতের পদার্থবিজ্ঞানী হোমি জাহাঙ্গির বাবা বলেছিলেন, যদি তিনি সবুজ সংকেত পেতেন, অর্থাৎ অনুমতি পেতেন, তবে মাত্র 18 মাসের মধ্যেই পারমাণবিক বোমা বানিয়ে ফেলতেন। কিন্তু ভারতের পারমাণবিক বোমার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয় অনেক পরে কেন এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন এবং পাকিস্তান কী ভাবে দায়ী৷।তৎকালীন শক্তিশালী সব দেশগুলোর পরীক্ষামূলক পারমাণবিক শক্তি প্রয়োগের পর 1968 সালে পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ বন্ধের বেশ কয়েকটি দেশ একসঙ্গে একটি চুক্তি করে। সেই চুক্তি অনুযায়ী অপারমাণবিক দেশগুলো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বন্ধ ও পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো নিজেদের ভাণ্ডারে থাকা পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগ না করার প্রতিজ্ঞা করে। ভারতীয়দের মতো শক্তিশালী সব দেশের পারমাণবিক অস্ত্রের ভাণ্ডার তৈরি হয়ে যাওয়ার পর এমন ঘোষণা।অন্য কিছু প্রমাণ করে অন্য কিছু বলতে নিজেরা শক্তিশালী হওয়ার পর অন্য কোনও দেশ যেন সে শক্তি তৈরি করে না ফেলে। তাই এমন চুক্তি করা হয়। কিন্তু ভারতে সই করেনি ভারত৷ চুক্তিতে সই করতে এক শর্তে রাজি হয় ভারত৷ বলে যদি পরাশক্তি দেশগুলো নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রের ভাণ্ডার পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়, তবে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বন্ধ করে দেবে। কিন্তু ভারতের এই শর্ত কে পাত্তাই দেওয়া হয়নি। যখনই পশ্চিমারা এই নন প্রলিফারেশন ট্রিটি ঘোষণা দেয়, একশ 91 টি দেশ একযোগে এই চুক্তিতে সই করে শুধুমাত্র ভারত।পাকিস্তান ও ইসরাইল চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। পরবর্তীতে উত্তর কোরিয়া চুক্তি থেকে সরে আসে। এখন প্রশ্ন, এত দেশ চুক্তিতে সই করল ভারত কেন করেনি?

ভারত সীমান্ত জুড়ে চলছিল অস্থিরতা। 1962 সালের 20 অক্টোবর চীন ভারত সীমান্তে বড়সর হামলা চালায় চিন। ভারতের লাদাখ এবং অরুণাচল প্রদেশ দখল করে নেয় এবং ভারত প্রায় 43,000 জমি হারায়। তখন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ভারত চিন সীমান্তে উত্তেজনা জারি আছে। এর ঠিক তিন বছর পর পাকিস্তান ভারতে হামলা করে শুরু হয়ে যায়। 1965 সালের ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ পুরাতন কান নাক উঁচু দুর্গ নিয়ে ভারত পাকিস্তানের মধ্যে শুরু হয়েছে।রক্তাক্ত যুদ্ধ কোনদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিন পাকিস্তানের আরেকটা করা হামলায় শেষ হতে পারত সমগ্র ভারতবর্ষ এক সীমান্তের উত্তেজনা। দুই চীন পাকিস্তানের বাড়তি বন্ধুত্ব, তিন দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থা। মূলত এই তিন কারণেই ভারত ননপ্রলিফারেশন চুক্তিতে সই করেনি, শুরু হয়ে যায় পাকিস্তান৷ ভারতের স্নায়ুযুদ্ধ এই পরিস্থিতিতে ভারতের সুরক্ষায় আসেন ভারতের তিন জন কিংবদন্তি লালবাহাদুর শাস্ত্রী হোমি জাহাঙ্গির ভাবা এবং দোরাবজি টাটা।দোরাবজি টাটা অর্থ দিয়ে গবেষণায় সাহায্য করেন। অন্যদিকে হোমি জাহাঙ্গির ভাবা এই অর্থ দিয়ে বিশ্ব বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ অ্যান্ড টমবয় অ্যাটমিক এনার্জি প্রতিষ্ঠা করেন। 1965 সালে লালবাহাদুর শাস্ত্রী পারমাণবিক ভান্ডার তৈরির অনুমতি দেন।পাকিস্তান ভারতের এই সিদ্ধান্তের পর নড়েচড়ে বসে জুলফিকার আলী ভুট্টো ঘোষণা দেন, ভারত যদি পারমাণবিক বোমা তৈরি করে, তবে না খেয়ে হলেও পাকিস্তান পারমাণবিক বোমা তৈরি করবে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে মাত্র তিন মাসের মাথায় 1966 সালের জানুয়ারি মাসে ভূমি জাহাঙ্গীর বাবা বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। আরও অবাক করা বিষয় হল একই মাসে লালবাহাদুর শাস্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয় থেমে যায় ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের অগ্রগতি।1971 সালের ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তানি বিমান বাহিনী ভারতের আকাশপথে হামলা চালায় ভারত। পাকিস্তানকে এমন এক অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দেয়। সেখান থেকে মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে পাকিস্তান হার মানতে বাধ্য হয়। আত্মসমর্পণ করে। 1971 সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র 75,000 টন ওজনের নৌবহর বঙ্গোপসাগরে পাঠায়। নৌবহর অন্যতম বৃহৎ নৌবহর ছিল, যা এক সঙ্গে 70 টি ফাইটার ভোটগ্রহণ করতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য পশ্চিম তীরে নৌবহর পাঠায় ভারতের পাশে এসে দাঁড়ায় রাশিয়া রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ভর্তি দুটি ক্রুসার দুই।প্রয়াস তা বড় ছেলের সঙ্গে ছয়টি সাবমেরিন পাঠায়, পিছু হটে যায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। নিউ ইয়র্ক টাইমস এর তথ্য অনুযায়ী, ঠিক তখনই তত্কালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন রাশিয়াকে শিক্ষা দিতে ভারতের উপর পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। এই তথ্যে ভীত না হয়ে বরং নিজেদের সুরক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন। 1972 সালের সেপ্টেম্বরের সাত তারিখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নিউক্লিয়ার ফিশন প্রযুক্তি এবং 75 জন পরমাণু বিজ্ঞানী পারমাণবিক বোমা তৈরি শুরু করে।এই দুই বছর পর ভারত পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালায়। যার নাম দেওয়া হয় স্মাইলিং বুদ্ধ। ভারত যখন পারমাণবিক ভাণ্ডার আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়, ঠিক তখনই ইন্দিরা গান্ধী দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন জানিয়ে আমরা গেল পর্বে আলোচনা করেছি। এরপর 20 বছর ভারত পারমাণবিক দিতে কোনও উন্নতি করতে পারেনি। একদিকে চীনের পারমাণবিক শক্তি, অন্যদিকে পাকিস্তানও ধীরে ধীরে নিজেদের গুছিয়ে নেয় দুই প্রতিবেশী শত্রুর কাছে ভারতের অবস্থা টালমাটাল কীভাবে নিজেদের সামলে নিল ভারত।1995 সালে অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হলেও প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রায় পারমাণবিক পরীক্ষার অনুমতি দেয়। গোয়েন্দা সংস্থার সন্দেহ প্রকাশ করে পারমাণবিক পরীক্ষা দুই দফা পিছিয়ে 1998 সালে অটলবিহারী বাজপেয়ী ক্ষমতায় আসলে ভারতের স্বপ্ন পূরণ হয়। অটলবিহারী বাজপেয়ীকে সঙ্গে এপিজে আব্দুল কালাম এবং আর চিদাম্বারাম এপ্রিল মাসের আট তারিখে দুজনকে ডেকে পাঠায়। বাজপাই খুবই গোপনীয়তার সঙ্গে শক্তি এক শক্তি, দুই শক্তির তিন নামের পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা করা হয়। ভারত খুবই দক্ষতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা স্যাটেলাইটকে৷।বাকি দিয়ে পরীক্ষা পরিচালনা করে। এরপর প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী সমগ্র বিশ্বের সামনে ঘোষণা করেন। এর ঠিক দুই সপ্তাহ পর পাকিস্তানও নিজেদের পারমাণবিক শক্তি হিসেবে ঘোষণা দেয়।বর্তমানে ভারত বিশ্বের নয়টি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে একটি। বর্তমানে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দেশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক শক্তির কারণে আজকে ভারতের সিদ্ধান্তের কদর সারা বিশ্বের সামনে অনেক বেড়েছে। আজ এই পর্যন্তই আবার ফিরে আসব নতুন কোনও ইতিহাস নেই। তত দিন পর্যন্ত ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, সঙ্গে থাকুন সময়ে।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Ok, Go it!
// For Firebase JS SDK v7.20.0 and later, measurementId is optional const firebaseConfig = { apiKey: "AIzaSyCcg2i2qTpw3rl2VtoWAInpWy5v-1tnUIo", authDomain: "bartagharbd-16d6f.firebaseapp.com", databaseURL: "https://bartagharbd-16d6f-default-rtdb.firebaseio.com", projectId: "bartagharbd-16d6f", storageBucket: "bartagharbd-16d6f.appspot.com", messagingSenderId: "171326215023", appId: "1:171326215023:web:fc18a6e1a0df41e3d64e9a", measurementId: "G-JHDPRX7ZMC" };