এক ঢিলে তিন পাখি মা’র’বেন পুতিন?
হামাসের আক্রমণের ১ম বার্ষিকীতে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ আরও আগুন বিনিময় করেছে
হামাসের আক্রমণের প্রথম বার্ষিকীর আগে ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহ আরও গুলি বিনিময় করেছে, যা গাজায় যুদ্ধের সূত্রপাত করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইসরাইল এবং ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নিয়ে অস্থির। তবে এই সংঘাতের নাকি আছে নানা ফায়দার দিক। তাই বিশ্লেষকরা তুলেছেন। প্রশ্ন, ইসরাইল ইরান সংঘাত থেকে রাশিয়া কী চায়?
রাশিয়া ইউক্রেইনে সামরিক সহায়তার জন্য ইরানের উপর নির্ভরশীল। তবে হিজবুল্লাহর সাথে জটিল সম্পর্ক রয়েছে নয়।লেবাননের রাজনৈতিক পরিস্থিতির এই বিপর্যয় রাশিয়ার কৌশলগত অবস্থান কে নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। প্রশ্ন হচ্ছে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধের সম্ভাবনা কি রাশিয়াকে একটি নতুন ভূ রাজনৈতিক মহল যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে গো?
সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারঅ্যাকশন অ্যান্ড কোঅপারেশন এর প্রতিষ্ঠাতা এবং ডি করিয়া এক্সপার্ট ক্লাব থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সদস্য অ্যালেক্স মালিন আল জাজিরা কে বলেছেন, আরব ইসরাইল সংঘাতের চলমান বৃদ্ধি রাশিয়ার জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয় নয়।নয়, ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের অবিচল সমর্থনের বিপরীতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের প্রবেশের ঘটনায় নিন্দা করেছে ইসরাইলকে। সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। এর আগে রাশিয়া হিজবুল্লাহর নেতা হাসান নাসরাল্লাহ হত্যার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ইসরায়েল সংঘাত বৃদ্ধির সম্পূর্ণ দায় বহন করে ক।ইউক্রেইনে আগ্রাসনের জন্য রাশিয়া উল্লেখযোগ্য। ইরানি সহায়তা পেয়েছে আজারবাইজানের বাকুতে অবস্থিত মধ্য প্রাচ্যের রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ রুসলান সুলেমান বলেছেন, রাশিয়া গত আড়াই বছর ধরে ইরানের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করছে। একচেটিয়াভাবে সামরিক ক্ষেত্রে।রাশিয়াতে ইরানের অস্ত্রের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তাঁরা কখনওই এই ধরনের চাহিদার মধ্যে ছিল না এবং রাশিয়া ইরানের অস্ত্রের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।ছিলেন আরও বলেছেন, ইরানের সামরিক প্রশিক্ষকরা রাশিয়া সফর করেছেন এবং রাশিয়ার অভ্যন্তরে সাহেব ড্রোন তৈরির জন্য একটি কারখানা তৈরি করতে সহায়তা করছেন। এর ফলে রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্রদের যেমন হিজবুল্লা আন্দোলনকে সমর্থন করতে বাধ্য হয়েছে।একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সমর্থন করছে, অন্যদিকে রাশিয়া লেবাননে ইসরাইলি হামলার নিন্দা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের বাড়াবাড়ি রাশির জন্য একটি সুযোগ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ এখন ইসরায়েলের দিকে। অর্থাৎ মধ্য প্রাচ্যের বিশৃঙ্খলা রাশিয়ার জন্য একটি সুযোগ হতে পারে। কেন?
কিন্তু কি হবে যদি ইরান এবং ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ আরও বেড়ে যায়?
মস্কো সর্বাত্বক যুদ্ধ চায় না রাশিয়া জানে যুদ্ধের ফলে তাদের নিজস্ব স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে৷ অতীতে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে কী ঘটেছিল তাঁদের মনোযোগী করে তুলেছে। রাশিয়া চায় এই দ্বন্দ্বের মধ্যে তারা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হোক, যাতে তাঁরা বৃহত্তর কৌশলগত সুবিধা লাভ করতে পারে।রাশিয়ার এই অবস্থান কিন্তু বিচ্ছিন্ন নয়৷ তাঁদের ইরানের সাথে সম্পর্ক গত আড়াই বছর ধরে গভীর হয়েছে। ইরান যে ভাবে রাশিয়াকে সামরিক প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করছে, তার রাশিয়ার দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ রাশিয়া চাইছে। ইরান তাদের অস্ত্রের বিকল্প হিসেবে দাঁড়াক। আর এদিকে ইরানও চাইছে রাশিয়ার সাহায্যে তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে।
