নিউইয়র্কে হবে না ড. ইউনূস-মোদির বৈঠক, তবে টেবিলে বসতে পারেন ইউনূস-শাহবাজ
গত আগস্ট মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামি লিগ সরকারের পতনের পর নতুন বাংলাদেশের হাল ধরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শান্তিতে নোবেলজয়ী ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বেশ কৌশলের সাথে এগিয়ে চলছেন। কিছুদিন আগেই প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে।ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। তবে সেই বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা এখন প্রায় শূন্য৷ কেননা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাথে নরেন্দ্র মোদী আপাতত কোনও বৈঠক করতে চান না। কিন্তু উভয় নেতাই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন ইউনুস। মোদীর বৈঠকের বিষয়টির সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন কর্মকর্তারা আঠারোই সেপ্টেম্বর বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন। খবরটি প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।সংবাদমাধ্যমটি বলছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মহম্মদ ইউনুসের সাথে দেখা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে না৷ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা বুধবার এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু টাইমসের দাবি, এই মাসের শুরুর দিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে বৈঠকের জন্য।আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছিল বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে তা দূর করতে সাহায্য করবে এই আশায় ঢাকা এই বৈঠকের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে।বৈঠকের বিষয়ে অবগত সাফাই দিয়ে বলেছেন, এ ধরনের বৈঠক ভারতের এজেন্ডার অংশ নয়। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে মোদীর তিনদিনের সফরে ব্যস্ত সময়ে সূচিতে পূর্ণ থাকবেন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তৃতা করার পাশাপাশি চতুর্দেশীয় জোট কোয়াড এর শীর্ষ বৈঠক এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত ও প্রবাসী ভারতীয়দের সভায় তিনি যোগ দেবেন বলে দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের নতুন সরকার প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কোন সময় হবে না তাঁর।তাই তিনি বৈঠকের বিষয়টিকে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এদিকে ভারত না বসলেও বৈঠকের টেবিলে বসতে পারে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাড়ে 15 বছরের শাসনামলে স্থবির হয়ে পড়া বাংলাদেশ পাকিস্তান সম্পর্ক প্রতিস্থাপনে কাজ করতে ইচ্ছুক এই দুই দেশ। তাই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যে বৈঠক হতে পারে। চলতি মাসের শেষ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে।তাঁদের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম স্পেস ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ পাকিস্তানের সম্পর্ক উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত। কয়েকটি সূত্র তাদের জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে কয়েক মাসের ব্যাপক বিক্ষোভের পর গত 5 আগস্ট শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার বিষয়টি অবশ্যই ইসলামাবাদের জন্য ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক সংশোধনের দরজা উন্মুক্ত করে দিয়েছে। আর সেই সুযোগ ব্যবহার করে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করতে চায় ইসলামাবাদ।
