চীনের অর্থনীতি নিয়ে চিন্তিত শি জিন পিং, সাধারণ মানুষ কী ভাবছে.
চীনের অর্থনীতি নিয়ে চিন্তিত শি জিন পিং, সাধারণ মানুষ কী ভাবছে.
সম্প্রতি চিনে গবেষণা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের মনোভাব আশা হতাশার 1:00 প্রতিফলন পাওয়া গেছে। সাধারণত চিনে
সম্প্রতি চিনে গবেষণা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের মনোভাব আশা হতাশার 1:00 প্রতিফলন পাওয়া গেছে। সাধারণত চিনে এই ধরনের তথ্য পাওয়া মুশকিল। কারণ তাদের বেশিরভাগ আবেগ অনুভূতি হতাশার কারণ এগুলো সেন্সর করা হয়। কিন্তু এই দুটি জরিপে যারা অংশ নিয়েছেন তাঁরা অ্যাকাডেমিক গবেষণার জন্য একটি গোপনীয় থাকার আশ্বাস পেয়েই তাদের মতামত প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু এই মতামতের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর নড়েচড়ে উঠেছে চিনের কমিউনিস্ট মসনদ। কিন্তু কেন?
কী এমন উঠে এসেছে সেই জরিপে সেই জরিপটি বিশ্লেষণ করব। আমাদের আজকের প্রতিবেদনে আপনাদের সাথে আছি আমি মহসিন।যে জরিপের কথা শুরুতে বললাম সেটার উপর চিনের অর্থনৈতিক 1:00 গভীর প্রভাব রয়েছে। তাই শুরুতে চিনের সাম্প্রতিক অর্থনীতির কী অবস্থা তার 1:00 ধারণা থাকা প্রয়োজন। কখন চিন যখন 1978 সালে তার অর্থনৈতিক সংস্কার করে উদার নীতি গ্রহণ করেছিল তখন থেকেই দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বছরে গড়ে নয় শতাংশের বেশি হারে বৃদ্ধি পেয়ে আসছে। কিন্তু 2022 সালে এসে চীনের প্রবৃদ্ধি কমে যায়। সে বছর দেশটির প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র 3%। আর 2023 সালে সেটি আবারও 5.2% প্রবৃদ্ধি অর্জন করে।কিন্তু জরিপ বলছে, দেশটির ভেতরের সাধারণ মানুষ৷ বিষয়টিকে একটু অন্যভাবে দেখছে। যেমন গত পাঁচ বছরের মধ্যে 2023 সালে প্রথম চিন থেকে বিদেশি বিনিয়োগ অন্যত্র চলে যেতে দেখা গেছে। তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হারে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে, যা গত 20 বছরের তুলনায় 20 শতাংশের বেশি। এছাড়া চলতি বছরের শুরুতে শেয়ারবাজারে ধস দেখা গেছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন চিনের এই দুর্বল অর্থনীতির পরিস্থিতির কারণে।দেশটির নেতৃত্ব স্থানীয় এখন বেশ উদ্বিগ্ন। তারা অর্থনীতির গতি বাড়াতে একের পর এক নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছেন। যেমন গত এক সপ্তাহে তারা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। নগদ অর্থ বিতরণের মতো বিরল পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং অর্থনীতি সচল করতে ক্রমাগত বৈঠক করে যাচ্ছেন। এছাড়া ধসে পড়া বাজারকে পুনরুজ্জীবিত করতে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ হচ্ছে।সেপ্টেম্বরে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অর্থনীতির সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে কথা বলেন এবং গুরুতর চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তবে অর্থনীতির ধীর গতির প্রভাব সারা দেশে সাধারণ মানুষের উপর কী ভাবে পড়ছে তা ঠিক স্পষ্ট নয়৷ কারণ তিনি জনগণের আশা, নিরাশা এবং হতাশা প্রায়ই সেন্সর করা হয়। তাই তাদের সঠিক মনোভাবটা জানা কঠিন করে।সম্প্রতি যে দুটি নতুন গবেষণার কথা বলেছি তার প্রথমটিতে দেখা গেছে, চীনের জনগণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আরও হতাশ এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। আর দ্বিতীয়টিতে একটি প্রতিবাদ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে মানুষের অসন্তোষ ও প্রতিবাদের ঘটনা কেবল বেড়েই চলছে।যদিও এগুলো পূর্ণাঙ্গ চিত্র নয়৷ তবুও চিনের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের অনুভূতি সম্পর্কে একটি দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যায়। যদি 2:00 থেকে আবাসন খাতের সঙ্কট ছাড়াও সরকারি ঋণের বৃদ্ধি এবং বেকারত্বের হার বেড়ে যাওয়া ব্যয়কে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। এবছর চিনের নিজস্ব প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা 5% অর্জন করতে পারবে না বলে আশঙ্কাও করা হচ্ছে।নয়ই৷ ধীরগতি চিনের কমিউনিস্ট পার্টির জন্য একটি বড় সতর্ক সংকেত দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চীনকে বৈশ্বিক শক্তিতে পরিণত করেছে এবং এই স্থিতিশীল সমৃদ্ধি চিনে একনায়কতন্ত্রের জন্য বড় 1:00 প্রলোভন ছিল।নয় অর্থনৈতিক গতি মূলত মহামারী। পরবর্তী সময়ে আসে কোভিড মহামারীর সময় তিন বছরের লকডাউন চীনের অর্থনৈতিক কার্যকলাপকে স্থগিত করে দেয় এই মহামারী পূর্ব এবং পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেছে। মার্কিন অধ্যাপক মার্টিন ওয়াইট এবং স্কট রোজের গবেষণা।2004 এবং 2000 নয় সালে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় 60 শতাংশই বলেছিলেন যে তাঁদের পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা বিগত পাঁচ বছরে উন্নত হয়েছে এবং তারা ভবিষ্যত সম্পর্কেও আশাবাদী৷ কিন্তু 2023 সালে মাত্র 38.8% মনে করছেন যে তাদের পরিবারের অবস্থা উন্নত হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ছিলেন 47%। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হওয়া মানুষের হার 2004 সালে 2.3% থেকে বেড়ে 2023 সালে 16% হয়েছে।চিনের সরকারি ভাবে জনগণের মতামত সংগ্রহ করা কঠিন৷ তবে যারা জরিপে অংশ নিয়েছেন তাঁরা অ্যাকাডেমিক গবেষণার জন্য একটি গোপনীয় থাকার আশ্বাস পেয়েই তাঁদের মতামত প্রকাশ করেছেন। এখানে বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনের কঠোর কোভিড 19 ব্যবস্থাপনা মানুষকে হতাশ করেছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতি তাঁদের আস্থা নষ্ট করে ফেলেছে কম।নয়, অতীতে চীনের মানুষ বিশ্বাস করত যে কঠোর পরিশ্রম সাফল্য বয়ে আনবে। কিন্তু 2023 সালে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মাত্র 28.3% মনে করছেন কঠোর পরিশ্রমে সাফল্য আসে। আর বাকিরা এর সাথে একমত হননি করে।চীনের নেতারা দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পরিশ্রমের মূল্য কে উচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। শি জিনপিংয়ের চাইনিজ ড্রিম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান ড্রিম এর মতোই যেখানে কঠোর পরিশ্রম সাফল্য এনে দেয় ওয়ান।কিন্তু 2023 সালের গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ বিশ্বাস করছে এখন ধনী হওয়ার জন্য পারিবারিক প্রভাব এবং সম্পর্কই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে 10 বছর আগেও শিক্ষা এবং প্রতিভার মূল্য ছিল সবচেয়ে বেশি।নয় 1024 সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে 18% প্রতিবাদ বেড়েছে, যা বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্যে বেশি দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিনের অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে পড়েছে, তা বলা কঠিন। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে এই ধরনের অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।নয় চীনের নেতারা এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। কারণ বেকারত্বের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে 2023 সালের আগস্টে চীন যুব বেকারত্বের পরিসংখ্যান প্রকাশ বন্ধ করে দেয়। সরকারের আরেকটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মানুষের অসন্তোষ প্রকাশকে দমন করা সোশ্যাল মিডিয়ায় অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে যে কোনো ধরনের আলোচনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের প্রদর্শন করা ব্যক্তিদের বারবার সতর্ক করা হয়েছে। গবেষকরা বলছেন।চিনের কঠোর সেন্সরশিপ থাকা সত্বেও মানুষের অর্থনৈতিক অসন্তোষ প্রতিবাদের কারণ হয়ে উঠছে অর্থনৈতিক গতি, যা এক সময় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি এবং উন্নত জীবনযাত্রার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে একনায়কতান্ত্রিক শাসনের মধ্যে ধরে রেখেছিল। এখন তার ভিত্তি নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া চিনের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগ সৃষ্টি করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই অনিশ্চয়তা দিনে দিনে আরও বাড়ছে।
