ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর যা যা হচ্ছে
ইসরাইলকে লক্ষ্য করে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান হামলার পর ইসরায়েল জুড়ে বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং ইরানের মিসাইল নিক্ষেপের কথা জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। তারা বলছে, প্রায় একশ 80 টি মিসাইল ছোড়া হয়েছে এবং অনেক মিসাইল ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে মধ্য এবং দক্ষিণাঞ্চলের কিছু আঘাতের ঘটনা ঘটেছে। ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তেহরানের রাস্তায় লোকজন উৎসব করেছে। তবে।ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরান বড় ভুল করেছে এবং সেজন্য তাকে মূল্য দিতে হবে।সম্প্রতি হামাস হেজবুল্লাহ এবং ইরানের সিনিয়র কমান্ডারদের হত্যার জবাবে এই মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড।গত সপ্তাহ জুড়ে নিরাপত্তা পরিষদের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ করে আসছে ইরান।দৃষ্টি বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে পুরোদস্তুর একটি যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার আগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পরিষদের জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদীর আডবাণী বলেছেন, হামাস হেজবুল্লাহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের হত্যার পাল্টা পদক্ষেপ হিসাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। ইসরাইলি ভবিষ্যৎ হামলার আরও জোরালো জবাব দেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত দানি দারুণ ঘোষণা দিয়েছেন যে, ইরানের সর্বশেষ হামলার সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।তিনি বলেছেন, আমাদের যুদ্ধের কোনও ইচ্ছা নেই। কিন্তু যখন আমাদের বেসামরিক লোকজনের উপর এভাবে হামলা চালানো হচ্ছে তখন আমরা অলস বসে থাকতে পারি না। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে তারা ইসরাইলকে সহায়তা করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য বলেছে, যুদ্ধে ইজরায়েলকে সহায়তা করতে অংশ নিয়েছিল ব্রিটিশ সেনারা। ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ।বিবিসির নিরাপত্তা বিষয়ক সংবাদদাতা ফ্র্যাংক গার্ডনার লিখেছেন, ইরান গত এপ্রিলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর ইসরাইলের আন্তর্জাতিক সহযোগীরা দেশটিকে যেভাবে ধৈর্য্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছিল এ 12 তেমন সম্ভাবনা কম। সাবেক ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা আবি মেল আহমেদ বলেছেন, ইরানের হামলা হল ইজরায়েলকে বড় ধরনের পাল্টা হামলা করার জন্য উস্কানি দেয়। আমরা ইরানী লক্ষ্যবস্তু গুলোতে উল্লেখযোগ্য এবং তাৎক্ষণিক ইসরাইলি জবাব দেখতে পাব।ইরানে হামলার জন্য দীর্ঘদিনের একটি পরিকল্পনা ইসরায়েলের হাতে থাকতে পারে। এর প্রতিরক্ষা প্রধান এখন পর্যালোচনা করে দেখবেন কখন ও কী ভাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্রে আঘাত করবেন। এর মধ্যে অবসম্ভাবী সামরিক লক্ষ্যবস্তু হবে স্থলভাগে যেখান থেকে মঙ্গলবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। সুতরাং ফাইলিংয়ের জন্য ক্ষেপণাস্ত্র যেখানে রাখা হয়েছে শুধু৷ সে জায়গায় নয়, বরং কমান্ডার ও কনট্রোল সেন্টার। এমনকী রিফিলিং সেন্টারও এর আওতায় থাকবে। এমনকি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দেশ দিয়েছে তারা এবং যারা এটি পরিচালিত করেছে তাদের বিরুদ্ধে ইরানের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে পারে।ইসরাইল আর যদি দেশটি আরও বেশি কিছু করতে চায় তাহলে তারা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো কে টার্গেট করতে পারে।ফ্রাঙ্ক হার্ন লিখেছেন যে পথে এগোতে ইসরাইল এতে ইরানের পাল্টা হামলা অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠবে এবং এর মাধ্যমে দেশদুটি হামলা ও প্রতিশোধের চিরস্থায়ী চক্রে আবদ্ধ হয়ে পড়বে।ইসরাইলের সরাসরি সামরিক হামলার জন্য ইরানকে কঠোর পরিণতির হুমকি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে জোর দিয়েছে হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বলেছেন, এ বিষয়ে ইসরায়েলের সাথে একযোগে কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেছেন, ওই অঞ্চলে উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতি ও প্রতিরোধ দুটোই চালিয়ে গেছে। এখন ইসরায়েল ইরানের হামলার জবাবে তারা সেটি বহাল রাখবে বলে তিনি জানিয়েছেন।মঙ্গলবার থেকে লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরাইল। আজ সেখানে তাঁরা আরও সৈন্য পাঠিয়েছে।এর আগে ইয়েমেনের হুতিরা মঙ্গলবার লোহিত সাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়। যার ফলে দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সোমবার হুতিদের ওপর ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল ইসরায়েল।
