স্থানীয় এমপির মধ্যে দীর্ঘ 11 বছরে নরসিংদীর সমবায় অঙ্গনে তিনি গড়ে তুলেছেন প্রতারণা আর লুটপাটের সাম্রাজ্য। কোটি টাকা চুক্তিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কটন মিলস নির্বাচন সমিতির কোষাগারে আত্মসাৎ কর্মকর্তাদের নামের ভুয়া প্রশিক্ষণ দেখিয়ে সরকারি টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ নানা অপকর্মে নিজের নাম জড়িয়েছেন আঞ্চলিক সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ আশরাফুল ইসলাম। এ নিয়ে সমবায় অধিদপ্তরে অভিযোগ গেলেও এমপির সঙ্গে খাতির থাকার সুবাদে তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।সরকারের এই কর্মকর্তা এখন সব কিছুর দায় চাপাচ্ছেন। স্থানীয় এমপি ও মেয়রের উপর বিস্তারিত প্রতিবেদনে নরসিংদীর আঞ্চলিক সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ আশরাফুল ইসলাম 2021 সালের আগস্টে সাবেক সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যকে ম্যানেজ করে অন্তর্বর্তী কমিটির সাবেক সভাপতি এডিসি জেনারেল কে সরিয়ে কমিটির দায়িত্ব নেন আশরাফুল যমুনা। স্মার্ট ফিচারের স্মার্ট লাইসেন্স স্মার্ট ফিচারের।এরপর থেকেই সমিতির অর্থ আত্মসাৎ শুরু করেন তিনি। এসব অপকর্মে মদত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নরসিংদীর সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম হীরুর বিরুদ্ধে। মি।অন্তর্বর্তী কমিটির মূল কাজ প্রকৃত সদস্যের সমন্বয়ে ভোটার তালিকা তৈরি করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা৷ তা না করে সমিতির অর্থ ব্যয় করে উন্নয়নকাজ দেখান আশরাফুল ন সমিতির রেজুলেশন ঘেঁটে দেখা যায়, 2022 সালের 3 এপ্রিল সমিতির নির্বাচন। কিন্তু সেই বছর মার্চের 12 তারিখ এর রেজুলেশনে রাস্তা পাকা করা কোলাপসিবল গেট নির্মাণ, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, ভবন রং করা ইত্যাদি কাজের কথা উল্লেখ করে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে।ছয় দিনের মাথায় 8,00,000 টাকার ভাউচার পাস করেন তিনি। এপ্রিলের তিন তারিখে নির্বাচনে যাতায়াত বাবদ তিনশ 91 জনের নামে ₹5000 করেভুয়া স্বাক্ষর ও ভুয়া বিল করে ₹20,00,000 আত্মসাৎকরেন। আশরাফুল করে তিনি যখন দায়িত্ব নিয়েছিলেন তখন সমিতির কোষাগারে ছিল ₹30,41,000। কিন্তুসমিতির আইনের বাইরে গিয়ে উন্নয়ন কাজের নামে 90 দিনে সমিতির আয় সহ 43,00,000 টাকার খরচ দেখিয়ে কোষাগার শূন্য করেন তিনি।তা ছাড়া ট্রেনিং সেন্টারকে কমিউনিটি সেন্টার বানিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। মিথ্যা অভিযোগ আছে, নরসিংদী জেলা সমবায় কর্মকর্তা হিসেবে সোনার বাংলা কটন মিলস সমবায় সমিতির মামলার পরিচালনার নাম করে স্থানীয় এমপির মরদেহে সাধারণ দোকানিদের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা উত্তোলন করেন আশরাফুল এমপির লোকজন কোনও কারণে চা দিতে দেরি করলে সেই টাকাও তুলে রাখতেন তিনি।আশরাফুলের দুর্নীতির তালিকা এখানেই শেষ নয়, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় এমপির যোগসাজশে এককোটি টাকার বিনিময়ে সোনার বাংলা কটন মিলস লিমিটেডের নির্বাচনে একটি পক্ষকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ের গ্যারান্টি দিয়ে টামি ভোটের আয়োজন করেন আশরাফুল। তাছাড়া 24 টি দোকান নির্মাণ করে 10 থেকে 15,00,000 টাকায় তা বিক্রি করলেও কোষাগারে জমা দেন মাত্র ₹3,00,000। একইভাবে সোনার বাংলা কটন মিলস সমবায় সমিতির নারায়ণগঞ্জ শাখার ক্যালেন্ডার মেশিন বিক্রি করে।এবং একটি ট্রাস্টকে দখলকৃত জায়গা ছেড়ে দিয়ে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আশরাফুলের বিরুদ্ধে। ক।দুর্নীতি দমন কমিশন, জনপ্রশাসন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং সমবায় অধিদপ্তরের এসব অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে৷ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও। তবে স্থানীয় এমপি র সঙ্গে সখ্যতার সুবাদে রেহাই পেয়ে যান আশরাফুল করেন।খুনের কথা স্বীকার করলেও স্থানীয় এমপি, মন্ত্রী পৌরসভার মেয়রের উপর দায় চাপান অধ্যক্ষ আশরাফুল ইসলাম কালবেলা কে তিনি জানান, নির্দেশনা দিলে কাজ করতে হয় তাঁকে৷ করে এই বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব সাহানারা খাতুন কালবেলা কে বলেন, আশরাফুল ইসলামের অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত করা হবে। প্রমাণ পেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে এ বিষয়ে কথা বলতে সমবায় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন দিলেও।তিনি ধরেননি৷