মোদির ৩.০ কেমন চলছে Modi 3.0 বিশ্লেষণ
মোদির ৩.০ কেমন চলছে Modi 3.0 বিশ্লেষণ
গত জুনে ভারতের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ছিল দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ভারতীয়দের এক চমকপ্রদ প্রত্যাখ্যান। কিন্তু তাঁর কথা শুনে এমনটি মনে হয়না। মোদীর দল বিজেপি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে।
গত জুনে ভারতের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ছিল দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ভারতীয়দের এক চমকপ্রদ প্রত্যাখ্যান। কিন্তু তাঁর কথা শুনে এমনটি মনে হয়না। মোদীর দল বিজেপি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। এরপর তাঁকে জোট অংশীদারদের উপর নির্ভর করে ক্ষমতায় যেতে হয়েছে। তবুও মোদী আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলে থাকেন, ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে।জনগণ তাকে ভোট দিয়েছে নন।তৃতীয় বারের মতো সরকার গঠনের পর মোদী তাঁর মন্ত্রিসভা খুবই কম পরিবর্তন করেছেন। জনসম্মুখে তিনি 2047 সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি আগের চেয়ে আরও দীর্ঘ ভাবে দিচ্ছেন। ওই বছরই ভারতের স্বাধীনতার 70 বছর পূর্ণ হবে তাঁর ভারতীয় জনতা পার্টি। ভারতের উন্নয়ন ও হিন্দু জাতীয়তাবাদের কথা তুলে ধরে বিভিন্ন আঞ্চলিক নির্বাচনের জন্য প্রচার চালাচ্ছে।ন আপাতদৃষ্টিতে মোদীর 3.0 বা তৃতীয় 12 ক্ষমতায় আসার সম্ভবত তার প্রথম দুই মেয়াদের মতোই হতে যাচ্ছে। তবে আরও গভীরভাবে তাকালে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠবে।প্রতিপক্ষে মোদীর নতুন সরকার বিরোধী দল এবং চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীগুলোর চাপে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বেশ কয়েকটি হাই প্রোফাইল মামলায় সরকার বা বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভারতের আদালতগুলো তাদের সাহস দেখাচ্ছে। এমনকী নিজের রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যেও মোদী তাঁর নেতৃত্বের পাশাপাশি তার কিছু নীতির সামঞ্জস্য করার দাবির মুখোমুখি হচ্ছেন।নো আরও বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে পাঁচটি রাজ্যে নির্বাচনে বিজেপির তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে। এসব নির্বাচন 18 সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। 2019 সালে মোদী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের আধা স্বায়ত্তশাসিত মর্যাদা বাতিল করার পর জম্মু ও কাশ্মীর এবারই প্রথম ভোট হল বিজেপির হরিয়ানার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে লড়াই করতে হবে। সেখানে 5 অক্টোবর ভোট হয়েছে এবং মহারাষ্ট্রে নভেম্বর নির্বাচন হয়।সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে বিজেপি বিরোধীরাও আগামী জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারির মধ্যে ঝাড়খণ্ড এবং দিল্লির নির্বাচনে নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।ন মোদীর সমর্থকদের কাছে তাঁর সাম্প্রতিক রেকর্ড দীর্ঘ নেতৃত্বের প্রমাণ। তারা বলছে, নির্বাচনের ফলাফল থেকে শিখেছেন মোদী এবং সংস্কারের এজেন্ডা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি আলোচনা করেছেন। সমর্থকদের দাবি, মোদী এখনও জনপ্রিয় এবং জওহরলাল নেহেরুর পর প্রথম ভারতীয় রাজনীতিবিদ হিসেবে পর পর 312 প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কৃতিত্ব তাঁর প্রাপ্য নয়।2004 থেকে 2000 14 সাল পর্যন্ত ভারতের পার্লামেন্টে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন সরকার ছিল। ওই সময় কংগ্রেসের চেয়ে এবার কোয়ালিশন সরকারে বিজেপি বেশি আসন রয়েছে। এ নিয়েও স্বস্তিতে রয়েছে মোদীর সমর্থকেরা।তবে মোদী কি সত্যিই শক্তিশালী থেকেও ঐকমত্য সৃষ্টি হতে পারবেন?
এর আগে কখনও তাঁকে ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে হয়নি৷ নির্বাচনের প্রচারের সময় তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি ঐশ্বরিক এবং অভূতপূর্ব শক্তি অনুভব করছেন ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের জন্ম হয়েছিল বিজেপির এই সংঘটি প্রকাশ্যে বিজেপির সমালোচনা করেছে। যদি মোদী পরিবর্তন করতে চান৷ হয়তো তাঁকে এসব বিষয় থামিয়ে দিতে বাধ্য করবে।ন দিল্লির থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর পলিসি রিচার্স রাহুল বর্মা বলেন, এখনও অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠনে কাজ করার সুযোগ রয়েছে মোদীর। শেষ পর্যন্ত এটি তাকে আরও ভালো নীতি নির্ধারণে সহায়তা করবে। কিন্তু ফলাফল হবে ধীর প্রাথমিক লক্ষণগুলো থেকে বোঝা যায় তিনি এখনও পুরোপুরি এ বিষয়ে তাল মেলাতে পারছেন না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সম্প্রতি প্রত্যাহার করা বিষয়গুলো নিয়ে তিনি আরও ব্যাপকভাবে দলগুলোর পরামর্শ করতে পারতেন।এই সামঞ্জস্যতা করতে না পারলে তার দলের নির্বাচনী ক্ষতির কারণ হতে পারে এবং এমনকি মোদীর নেতৃত্বের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে না৷।অগাস্টের শুরুর দিকে ভারত সরকারের পরিবর্তনের প্রথম পদক্ষেপ গুলোর মধ্যে একটি দেখা যায়। ওই সময় ভারত সরকার একটি যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে মুসলিম ওয়ার্কস সম্পর্কিত নতুন আইন পাঠায়। উল্লেখ্য, গত দশকে মোদী সংসদের মাধ্যমে বেশিরভাগ আইন পাস করেছিলেন বিরোধী এবং মুসলিম নেতারা। এই বিলটিকে ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ জানিয়ে নিন্দা করেছেন। এর পরপরই সম্প্রচার পরিষেবা বিলে।নিউটন আসে ডিজিটাল এবং অন্যান্য মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার লক্ষ্যে ভারত সরকার গত নভেম্বরে একটি খসড়া প্রকাশ করে। এর পরে জুলাই মাসে স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সংক্ষিপ্ত আকারে এটি দেওয়া হয়।
কিন্তু অনেকের আপত্তি পরে হঠাৎ আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে বিষয়টি প্রত্যাহার করা হয়। আশঙ্কা ছিল, এটি ইউটিউবের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলোকে দমন করবে যা এখন মোদীর সমালোচকদের দ্বারা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন খসড়া দুই বছরের জন্য নাও আসতে পারে ন।তারপর 20 আগস্ট সরকার সিভিল সার্ভিসের বাইরে থেকে জ্যেষ্ঠ আমলা পদে নিয়োগের জন্য দেওয়া একটি চাকরির বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার করে নেয়। এই বিজ্ঞাপনটি সরকারের মধ্যে দক্ষতা আনার জন্য মোদীর উদ্যোগের অংশ ছিল। কিন্তু এটি শোরগোলের সৃষ্টি করে। কারণ নিম্ন হিন্দু, বর্ণ এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের জন্য কোনও পদ সংরক্ষিত ছিল না। এই ঘটনা নতুন করে জাতি ও বর্ণভিত্তিক আদমসুমারির প্রয়োজনীয়তার ইস্যুটিকে সামনে আনে। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে।এই আদমশুমারির বিরোধিতা করে আসছে। কিন্তু সম্ভবত দলটির আরেকটি ইউ টার্নের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত 2 সেপ্টেম্বর প্রথমবার বর্ণভিত্তিক আদমসুমারির জন্য আরএসএস সমর্থন জানিয়েছে ন।এই আদমশুমারি কিছু নিম্নবর্ণের ভোটারদের সন্তুষ্ট করতে পারে। তবে এটি উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। যাঁদের মধ্যে অনেকেই বিজেপি নেতা যদি একটি বর্ণ ভিত্তিক জনগণনা করা হয়, তবে এর ফলাফল সামাজিক গতিশীলতার বিষয়ে বিজেপির প্রতিশ্রুতিকে দুর্বল করে দিতে পারে। আর এই ধরনের বড় নীতিগুলো পাল্টে যায় একজন শক্তিশালী ত্রুটিহীন নেতা হিসাবে মোদীর ভাবমূর্তি মূল্য বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী 4 সেপ্টেম্বর বলেন, আমরা মোদীকে মানসিকভাবে শেষ করে দিয়েছি।আমি সংসদে তাঁর সামনে বসে আছি এবং আমি জানি তার আত্মবিশ্বাস চলে গেছেন।গত 13 সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট৷ দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের জামিন মঞ্জুর করে এই ঘটনা ভারতের বিরোধীদের জন্য আরেকটি উৎসাহের। খবর বিশ্লেষকরা বলছেন, এর ফলে কেজরিওয়াল আরও আগ্রাসীভাবে দিল্লির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। বেশ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ভারতের তদন্তকারী সংস্থাগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে ভারতে আদালতের সর্বশেষ পদক্ষেপ। এটি কেজরিওয়ালকে দুর্নীতির অভিযোগে গত মার্চে গ্রেফতার করা হয়েছিল। দিল্লির এই নেতার দাবি।রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
যদিও ভারতের আদালতগুলো এখনও সরকারি চাপে রয়েছে, তবুও রাজনৈতিকভাবে অভিযুক্ত অন্য মামলাগুলোতেও সুপ্রিম কোর্ট আরও দীর্ঘ হয়েছে। জুলাই মাসে আদালত তিনটি বিজেপি শাসিত রাজ্যকে হিন্দু তীর্থযাত্রার পথে দোকান এবং খাবারের দোকানগুলোকে মালিকের নাম প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। গত সেপ্টেম্বরে আদালত দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে অভিযুক্তদের সম্পত্তি ধ্বংস করার বিরুদ্ধে।রাজ্য সরকারগুলিকে সতর্ক করে দেয় প্রায়ই বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে মুসলমানদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এই ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হত নয়।মোদীর একশ দিনের পরিকল্পনার কথা বললে তিনি তার অনেক লক্ষ্যই অর্জন করেছেন। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলের পর তাঁকে বেশ কয়েকটি অংশ নতুন করে বিবেচনায় নিতে হয়েছে। এর মধ্যে দুটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাকে বেসরকারিকরণের প্রস্তাব তাঁকে বাতিল করতে হয়েছে। এটি স্পষ্টতই জোটের কিছু সদস্যদের বিরোধিতার মুখে তিনি করেছেন। তিনি নির্দিষ্ট চার বছরের মেয়াদে সেনা নিয়োগের একটি প্রকল্পের পরিকল্পনা জানিয়েছেন। এই প্রকল্পটি পেনশন ব্যয় কমানোর জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যা সামরিক ব্যয়ের এক পঞ্চমাংশ।বেশি শোষণ করে। কিন্তু আগের নিয়োগপ্রাপ্ত এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে মোদীর জোট শরিকদের মধ্যে আরেক দল এই পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে।এ সব বিষয় কোনটি মোদীর জন্য বিপর্যয় নয়৷ এখন শুরুর সময় তিনি ভোটে জয় অর্জন করেছেন জোট অংশীদারদের সঙ্গে সরকার গঠনের আলোচনা দ্রুত শেষ করেছেন। ভারতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আরও অর্থ বরাদ্দ করার জন্য তাঁর বাজেট পরিবর্তন করেছেন। ভারত এখনও বিশ্বের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান প্রধান অর্থনীতি। গত 3 সেপ্টেম্বর বিশ্ব ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, 2024 25 সালে ভারতের জিডিপির হার সাত শতাংশে পৌঁছবে।তবুও মোদীর 3.0 এর ধারাবাহিকতার চেয়ে আরও বেশি কিছু প্রয়োজন রয়েছে। এটি সমঝোতারও দাবি করে।



