ছোট বাচ্চাটার দিকে কি আমরা তাকাতে পারবো ফারুকী Mostofa Sarwar Farooki
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আব্দুল্লাহ আল মাসুদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দেশব্যাপী সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সদ্য বাবা হওয়া মাসুদ অন্যায় করে থাকলে তাকে বিচারের আওতায় না নিয়ে কারা মেরে ফেলল সেটিই প্রশ্ন উঠেছে।ও বিচারবহির্ভূত হত্যার এই ঘটনায় মর্মাহত সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষেরা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। মাসুদের ছয় দিন বয়সি সন্তানের দিকে কেউ তাকাতে পারবে কিনা সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।এক নির্মাতার ভাষ্য মতে, পুলিশ বাহিনীকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে৷ তবে এর সমাধানের পথে অবশ্যই হাঁটতে হবে মতো বাজি থামাতে সবাইকে ঐক্য ধরে রাখতে হবে। বিপ্লবের কৃতিত্ব কার কে ক্ষমতায় যাবে সে সব নিয়ে ব্যস্ত থাকলে বিশৃঙ্খলা বেড়েই চলবে। শৃঙ্খলা ছাড়া কোনও সংস্কার কাজে আসবে না বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।যাঁরা মদ বাজিতে মত্ত তাদেরকে সতর্ক করেছেন ফারুকি। তাঁরা যে ভয়ানক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।মোঃ আব্দুল্লাহ
আল মাসুদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য। 2014 সালের 29 এপ্রিল সকালে ক্লাসে যাওয়ার পথে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলের সামনে হামলার শিকার হন মাসুদ। এ সময় তার ডান পায়ের নিচের অংশ গোড়ালি থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। বাঁ পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই হামলায় পা হারিয়ে মাসুদ একটি প্লাস্টিকের পা লাগিয়ে চলাচল করতেন।ক দীর্ঘদিন বেকার থাকার পর 2022 সালের শেষ দিকে নিজের দুর্দশার কথা জানিয়ে একটি চাকরি চেয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি লেখেন মাসুদ। ওই বছরের ছয় ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক সাত মীর তা ফের সিদ্দিকা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে পাঠানো চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার পদে মাসুদকে নিয়োগ দিতে বলেন।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে 2022 সালের 20 ডিসেম্বর মাসুদকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে স্টোর অফিসার পদে নিয়োগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নিয়োগপত্র পেয়ে 22 ডিসেম্বর চাকরিতে যোগ দেন তিনি৷ সেই থেকে এই পদে চাকরি করতেন মাসুদ। গত 3 সেপ্টেম্বর মেয়ের বাবা হন তিনি। শনিবার নবজাতক শিশুর ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে মেয়ের জন্য দোয়া চান মাসুদ। এ দিন রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর বাজার থেকে।ওষুধ নিয়ে ফেরার সময় তাঁকে পিটিয়ে থানায় দেওয়া হয়। এরপর হাসপাতালে নিলে মারা যান তিনি।

